jagannathpurtoday-latest news

,

সংবাদ শিরোনাম :
«» জাহিদ হাসানের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ «» শেখ হাসিনার কারামুক্তি দিবসে সিলেটে যুবলীগের মিলাদ ও দোয়া «» দোয়ারাবাজারে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বেহাল দশায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ «» ওসমানীনগরে মা ও শিশু ক্লিনিকের বিরুদ্ধে মামলা «» সাবেক ছাত্রনেতা সেলিম আহমদের পক্ষে দক্ষিণ সুরমায় গণসংযোগ «» সিলেট-৩ আসনে দলীয় মনোনয়ন ফরম জমা দিলেন সাবেক যুবলীগনেতা জাহিদ হাসান «» সিলেটের জাকির আহমদ জুনেদ সংক্ষিপ্ত সফরে সাগরের পাড়ে «» সিলেট-৩ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হচ্ছেন শফি চৌধুরী «» কমলগঞ্জের ইসলামপুরে নৌকার কান্ডারী হতে চান আমির আলী «» জগন্নাথপুরে সালিশী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগে এলাকায় প্রতিবাদের ঝড়


ওসমানীনগরে মা ও শিশু ক্লিনিকের বিরুদ্ধে মামলা

ডেস্ক রিপোর্ট :: ভুল চিকিৎসায় শিশুর মৃত্যু এবং প্রসূতি মায়ের প্রতি অমানবিক আচরণের অভিযোগে সিলেটের ওসমানীনগরের ব্র্যাক মা ও শিশু ক্লিনিকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মৃত শিশুর বাবা জিতু মিয়া সিলেট সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে অভিযোগ দাখিল করলে বিজ্ঞ আদালতের নির্দেশে এ বিষয়ে ৩ জনকে অভিযুক্ত করে মামলা গ্রহণ করে থানা পুলিশ।

অভিযুক্তরা হচ্ছেন তাজপুরস্থ ব্র্যাক মা ও শিশু ক্লিনিকের ব্যবস্থাপক বালাগঞ্জ উপজেলার রূপাপুর গ্রামের মৃত ছিদ্দেক উল্লার ছেলে ফজলু মিয়া (৪২), কথিত চিকিৎসক ওসমানীনগরের তাজপুরস্থ দীগর গয়াসপুর গ্রামের লিটন রায়ের স্ত্রী সীমা রায় (৩৫) ও তাজপুরস্থ খাশিপাড়া (হরিপুর) গ্রামের মৃত বাদল দত্তের স্ত্রী চামেলী দত্ত (৪৫)।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়,  বালাগঞ্জ উপজেলার রূপাপুর গ্রামের জিতু মিয়ার স্ত্রী রুশনা বেগম (২৮) সন্তান প্রসবা হলে স্থানীয় চিকিৎসক আলট্রাসনোগ্রাফের মাধ্যমে জানতে পারেন শিশুটি মাতৃগর্ভে উল্টো অবস্থায় রয়েছে। এ সময় চিকিৎসক প্রসূতিকে এমএজি ওসমানী হাসপাতালে ভর্তির নির্দেশ দেন। ২২ এপ্রিল সকালে জিতু মিয়া স্ত্রীকে ওসমানী হাসপাতালে ভর্তির প্রস্তুতি নিলে প্রতিবেশি ফজলু মিয়া তাকে জানান, ওসমানীনগরের তাজপুরস্থ ব্র্যাক মা ও শিশু ক্লিনিকে নিয়মিত ভালো ডাক্তার আসেন এবং মাত্র ১০ হাজার টাকা বিনিময়ে তিনি ‘ডেলিভারি’ করিয়ে দেবেন। ফজলু মিয়া ওই ক্লিনিকের ব্যবস্থাপক হওয়ায় জিতু মিয়া তার কথায় বিশ্বাস করে ওইদিন দুপুরে তার স্ত্রীকে মা ও শিশু ক্লিনিকের ভর্তি করেন। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে প্রসূতি রুশনা বেগমকে ডেলিভারি রুমে নিয়ে অভিযুক্ত ৩ জন নর্মাল ডেলিভারির চেষ্টা করেন।

এ সময় রুশনার মা মনা বেগম তাদের জানান, প্রসূতির গর্ভে সন্তান উল্টো থাকায় ডাক্তার সিজারের পরামর্শ দিয়েছেন। তার কথায় কর্ণপাত না করে অভিযুক্তরা অমানবিক উপায়ে টেনে-হিচড়ে প্রসূতিকে সন্তান জন্ম দিতে বাধ্য করেন। এতে নবজাতক আহত ও প্রসূতির মারাত্মক রক্তক্ষরণ হলেও ক্লিনিকের ব্যবস্থাপক ফজলু মিয়া নবজাতক ও তার মাকে বাড়ি নিয়ে যেতে বলেন। এ সময় জিতু মিয়া তাদের কাছে থাকা প্রসূতির প্রেসক্রিপশন, রিপোর্ট ও অন্যান্য কাগজপত্র ফেতর দিতে বললে ফজলু মিয়া জানান, এসব ফেরত দেওয়ার নিয়ম নেই। জিতু মিয়া কাকুতি মিনতি করলে তাকে অপদস্ত করা হয়। পরবর্তীতে জিতু মিয়া ক্লিনিক থেকে বের হয়ে মারাত্মক আহত স্ত্রী রুশনা বেগম ও নবজাতককে নিয়ে পার্শ্ববর্তী প্যারাডাইস ক্লিনিকে যান। সেখানে দায়িত্বরত ডাক্তার রুশনা বেগমের রক্তক্ষরণ বন্ধ করতে যৌনাঙ্গে ৪টি সেলাই ও শরীরে তাৎক্ষনিক এক ব্যাগ রক্ত পুশ করেন। এবং নবজাতককে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। ঘন্টাখানেকের মধ্যে নবজাতককে ওসমানী হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ প্রসঙ্গে অভিযোগকারী জিতু মিয়া বলেন, ব্র্যাক মা ও শিশু ক্লিনিকের ভুল চিকিৎসায় আমার শিশু জন্মের পরই মারা গেল। ঘটনার ২ মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো আমার স্ত্রী অসুস্থ। ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ ভুল চিকিৎসা করে আমার সর্বনাশ ডেকে এনেছে। বাধ্য হয়েই আমি মামলা দায়ের করেছি।

ব্র্যাক মা ও শিশু ক্লিনিকের ব্যবস্থাপক ফজলু মিয়ার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি আনিত অভিযোগগুলো অস্বীকার করে মোবাইলের সংযোগ কেটে দেন।

ওসমানীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শ্যামল বণিক বলেন, আদালত থেকে নির্দেশ পেয়ে ৫ জুন থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ওসমানীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. তাহমিনা আক্তার বলেন, ব্র্যাক মা ও শিশু ক্লিনিকের বিষয়টি আমার জানা নেই। স্বাস্থ্য বিভাগের কেউ অবগতও করেননি। এ বিষয়ে খোঁজ নিচ্ছি।