jagannathpurtoday-latest news

,

সংবাদ শিরোনাম :


রাজসিক মাহমুদুল্লাহ কাঠগড়ায় কোচ-নির্বাচকরা

স্পোর্টস ডেস্ক :: গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে রাওয়ালপিন্ডিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে সর্বশেষ টেস্টটি খেলেছিলেন মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। বাংলাদেশ দল এরপর আরও ৫টি টেস্ট খেললেও দলে জায়গা হয়নি তার। হয়নি কারণ কোচ রাসেল ডমিঙ্গোই লাল বলের ক্রিকেট থেকে ‘বাতিলের খাতায়’ নাম দিয়ে দিয়েছিলেন অভিজ্ঞ এই ব্যাটসম্যানকে। ডমিঙ্গোর পরামর্শ ছিল, লাল বল বাদ দিয়ে মাহমুদুল্লাহর উচিত সাদা বলের ক্রিকেটেই বেশি মনোযোগ দেয়া। ডমিঙ্গো তার সেই বিশ্বাস থেকে পুরোপুরি সরে এসেছেন কিনা কে জানে! তবে জিম্বাবুয়ে আসার আগে তামিম ইকবাল আর মুশফিকুর রহীমের চোটে ফেরানো হয় মাহমুদুল্লাহকে। সুযোগটা পেয়ে দারুণভাবে কাজে লাগান এই অভিজ্ঞ ক্রিকেটার। অভিমানকে শক্তি বানিয়ে হারারের প্রত্যাবর্তন টেস্টকে রাঙান নিজের মতো করে। সাদা পোশাকে তিনি যে এখনো ফুরিয়ে যাননি তা আরও একবার প্রমাণ করলেন। হারারে স্পোর্টস ক্লাব মাঠে ১৫০ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে টিম ম্যানেজমেন্টকেও বার্তা দিয়ে রাখলেন মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। দীর্ঘ ১৬ মাস পর টেস্ট দলে সুযোগ পাওয়া মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ এই ম্যাচে ব্যাটিংয়ে নেমেছিলেন ৮ নম্বরে। ততক্ষণে মাত্র ১৩২ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে কঠিন চাপে বাংলাদেশ দল। সেখান থেকে প্রথমে লিটন দাসকে নিয়ে সপ্তম উইকেটে গড়েছেন ১৩৮ রানের জুটি। দলীয় ২৭০ রানের মাথায় মাত্র ৫ রানের জন্য সেঞ্চুরি থেকে দূরে থেকে আউট হন লিটন। পরের বলেই সাজঘরে ফেরেন মেহেদি হাসান মিরাজ। ফলে আবার বাড়ে চাপ। মনে হচ্ছিল তিনশ’র আগেই অলআউট হয়ে যাবে বাংলাদেশ দল। কিন্তু তাসকিন আহমেদকে নিয়ে টেস্ট ক্রিকেটের দুর্দান্ত প্রদর্শনী করলেন মাহমুদুল্লাহ। সাদা পোশাকের ক্রিকেটের সবচেয়ে প্রয়োজনীয় বিষয় হলো ধৈর্য, সেই ধৈর্য আর মনোসংযোগের চূড়ান্তরূপ দেখিয়েই দলকে বিপদ থেকে উদ্ধার করেন এ অভিজ্ঞ ক্রিকেটার। হারারেতে ৯৯ ওভারে রয় কাইয়ার তৃতীয় বলে ডিপ পয়েন্ট দিয়ে চার হাঁকিয়ে নিজের সেঞ্চুরি তুলে ফেলেন রিয়াদ। সঙ্গে শূন্যে হাত ছুড়ে যেন সকল সমালোচনার জবাব দেন এই ব্যাটসম্যান। তার অনবদ্য সেঞ্চুরিটি এসেছে ১৯৫ বলে। এই সেঞ্চুরি রিয়াদ গড়েছেন এগারটি চার ও একটি ছয়ের বিনিময়ে। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে এটা তার দ্বিতীয় সেঞ্চুরি। ২০০৯ সালে অভিষেকের পর টেস্টে প্রথমও সেঞ্চুরিটা গড়েছিলেন মাত্র আট মাসের ব্যবধানে। সেটা নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ২০১০ সালে। এরপরে দ্বিতীয় সেঞ্চুরি পেতে রিয়াদকে অপেক্ষা করতে হয় আরও ৮ বছর। ২০১৮ সালে দ্বিতীয় সেঞ্চুরিটা আসে এই জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। এরপরে আর থেমে থাকতে হয়নি রিয়াদকে। একই বছরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তৃতীয় সেঞ্চুরিটা বের করেন রিয়াদ। ২০১৯ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে নিজের চতুর্থ ও গতকাল জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে পঞ্চম সেঞ্চুরিটা তুলে ফেলেন এই ব্যাটসম্যান। ক্যারিয়ারের পঞ্চম সেঞ্চুরির পাশাপাশি নবম উইকেটে তাসকিনকে নিয়ে ১৯১ রানের জুটিতে বেশ কয়েকটি রেকর্ডে নাম লেখান রিয়াদ। বাংলাদেশের ইতিহাসে এই উইকেটে এটিই সেরা। নবম উইকেটে যেকোনো দলের সেরা জুটি হারারের স্পোর্টস ক্লাব মাঠেও। শেষ পর্যন্ত মিলটন সাম্বার ঘূর্ণিতে তাসকিন আহমেদ ব্যক্তিগত ৭৫ রানে বোল্ড হলে ভেঙেছে রেকর্ডগড়া জুটিটি। ১৩৪ বলে তাসকিনের ক্যারিয়ারসেরা ইনিংসটিতে ছিল ১১টি বাউন্ডারির মার। দলীয় ৪৬১ রানে তাসকিন ফেরার পর আর বেশি দূর এগোয়নি বাংলাদেশের ইনিংস। এবাদত হোসেন এলবিডব্লিউয়ের ফাঁদে পড়েন শূন্য রানেই। ৭ রান যোগ করে ৪৬৮-তে থামে টাইগাররা। তবে রিয়াদ শেষ পর্যন্ত অপরাজিতই ছিলেন। ক্যারিয়ারসেরা ১৫০ রানের হার না মানা ইনিংসে ১৭ বাউন্ডারির সঙ্গে একটি ছক্কা হাঁকান তিনি। এর আগে রিয়াদের টেস্ট ক্যারিয়ারে সেরা ইনিংসটি ছিল ১৪৬ রানের। ২০১৯ সালে হ্যামিল্টনে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সেটা করেছিলেন ডানহাতি এই ব্যাটসম্যান। ওই ম্যাচেও বড় জুটি গড়েছিলেন। সৌম্য সরকারকে নিয়ে পঞ্চম উইকেটে ২৩৫ রানের জুটি গড়েছিলেন রিয়াদ। যেটি কিনা বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসের সপ্তম সেরা জুটি। দেড়শ’ রানের ইনিংস খেলে রিয়াদ আরও একবার দেখালেন, তিনি ফুরিয়ে যাননি। বয়সটা ৩৬ ছুঁইছুঁই হলেও দলের বিপদে হাল ধরার মতো সামর্থ্য এখনো আগের মতোই আছে তার।