jagannathpurtoday-latest news

,

সংবাদ শিরোনাম :
«» সিলেটে মধ্যরাতে শাবি উপাচার্যের বাসভবন ঘেরাও «» সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ: জকিগঞ্জে কেন্দ্রে গিয়ে সিল মারা ব্যালট বাক্সে ভরেন নির্বাচন কর্মকর্তা «» গোয়াইনঘাটে মদসহ এক যুবককে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব «» কচুরিপানা বিক্রি হবে ২৫ টাকা কেজি! «» বিশ্বনাথ প্রেসক্লাবের বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত «» জগন্নাথপুরে ইউপি নির্বাচনে নৌকা ৩, বিদ্রোহী ৩, বিএনপির ১ জন চেয়ারম্যান নির্বাচিত «» বিশ্বনাথে পুলিশি নির্যাতনের প্রতিবাদে মানববন্ধন «» জগন্নাথপুরে ৭টি ইউনিয়নে আজ নির্বাচন «» ওসমানীনগরে ছাত্রলীগ নেতার যুক্তরাজ্য যাত্রা উপলক্ষে সংবর্ধনা «» ছাতকে ১০টি ইউনিয়নের নব-নির্বাচিত চেয়ারম্যানসহ ১৩০জন জনপ্রতিনিধির শপথ গ্রহন

সিলেটে জামানত হারালেন নৌকার প্রার্থীসহ ৪৪ জন

ডেস্ক রিপোর্ট :তৃতীয় ধাপে সিলেটের তিন উপজেলার ১৬টি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে গিয়ে জামানত হরিয়েছেন ৪৪ প্রার্থী। এরমধ্যে একটি ইউনিয়নে নৌকার প্রার্থীও রয়েছেন জামানত হারানোর তালিকায়। জেলার গোয়ানইঘাট উপজেলার ৬ ইউপির মধ্যে একটি ইউনিয়নে নৌকার প্রার্থীসহ মোট ১৪ জন জামানত হারিয়েছেন। তন্মধ্যে ডৌবাড়িতে ১ জন, ফতেহপুরে নৌকার প্রার্থীসহ ৪ জন, নন্দিরগাওয়ে ২ জন, তোয়াকুলে ১ জন, রুস্তমপুরে ৫ জন, লেংগুড়ায় ১ জন। জৈন্তাপুর উপজেলার পাঁচ ইউপির ১৮ জনের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। এরমধ্যে জৈন্তাপুর সদর ইউপিতে ৪ জন, চারিকাটায় ৫ জন, দরবস্ত ইউনিয়নে ৩ জন, ফতেহপুরে ১ জন, চিকনাগুল ৫ জন। দক্ষিণ সুরমার পাঁচটি ইউপিতে ১২ জন জামানত হারিয়েছেন। এর মধ্যে সিলামে ও লালাবাজার ইউনিয়নে ৩ জন করে, মোগলাবাজারে ২ জন, জালালপুর ৩ ও দাউদপুরে একজন এই তালিকায় রয়েছেন। সংশ্লিষ্ট রিটানিং কর্মকর্তার দফতর থেকে প্রাপ্ত তথ্যমতে, গোয়াইনঘাটের ডৌবাড়ি ইউনিয়নে প্রদত্ত ভোট ১২হাজার ৪৩টি। এ ইউপিতে চার প্রার্থীর মধ্যে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের এনামুল ইসলাম (খেঁজুর গাছ) ৫৮৬ ভোট পেয়ে জামানত হারিয়েছেন। জামানত রক্ষায় প্রয়োজন ছিল এক হাজার ৫০৫ ভোট। ফতেহপুর ইউনিয়নে ৭ প্রার্থীর ৪ জনই জামানত হারিয়েছেন। এ ইউনিয়নে মোট প্রদত্ত ভোট ১১ হাজার ৭৬৬টি। জামানত রক্ষায় প্রার্থীদের প্রয়োজন ছিল ১ হাজার ৪৭০ ভোট। এখানে আওয়ামী লীগের মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন (নৌকা) ১০৭০ ভোট, স্বতন্ত্র প্রার্থী ইসলাম উদ্দিন (অটোরিক্সা) ২৫৫ ভোট, স্বতন্ত্র প্রার্থী মীর হোসাইন আমীর (আনারস) ৫৭৫ ভোট, জমিয়তের প্রার্থী মৌলানা নিজাম উদ্দিন (খেঁজুর গাছ) ৫৩৪ ভোট পেয়েও জামানত হারিয়েছেন। নন্দিরগাও ইউনিয়নে ৬ চেয়ারম্যান প্রার্থীর ২ জন জামানত হারিয়েছেন। ইউনিয়নে মোট প্রদত্ত ভোট ১২ হাজার ৮৭২টি। জামানত রক্ষায় প্রয়োজন ছিল ১৬০৯ ভোট। প্রার্থীদের মধ্যে স্বতন্ত্র মো. আব্দুল ওয়াহিদ (আনারস) ১৫২৬ ভোট এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হীরক দেব (চশমা) মাত্র ৩৯ ভোট পেয়ে জামানত হারিয়েছেন। তোয়াকুল ইউনিয়নে প্রদত্ত ভোট ১৩ হাজার ২৪৮। ৪ প্রার্থীর মধ্যে চেয়ারম্যান প্রার্থী ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আলীম উদ্দিন (হাত পাখা) ১৪৪ ভোট পেয়ে জামানত হারিয়েছেন। জামানত রক্ষায় তার প্রয়োজন ছিল ১ হাজার ৬৫৬ ভোট। রুস্তমপুর ইউনিয়নে প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা ২১ হাজার ৯৬৮। জামানত রক্ষায় প্রার্থীদের প্রয়োজন ছিল ২ হাজার ৭৪৬ ভোট। এ ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে ৮ প্রার্থীর ৫ জনই জামানত হারিয়েছেন। তারা হলেন- স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল মজিদ সরকার (টেবিল ফ্যান) ৩১৮ ভোট, স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল মতিন (মোটরসাইকেল) ১০৪৪ ভোট, স্বতন্ত্র প্রার্থী আলী আমজদ (ঘোড়া) ১০৭৬ ভোট, স্বতন্ত্র মো. হাবিবুর রহমান (টেলিফোন) ২৮৬ এবং স্বতন্ত্র সালেহ আহমদ ১২৫ ভোট পেয়েছেন। লেংগুড়া ইউনিয়নে প্রদত্ত ভোট ৮ হাজার ৭৮০টি। এরমধ্যে জামানত রক্ষায় ৮ ভাগের একভাগ ভোট ১০৯৭ ভোট পাওয়ার কথা। সে হিসেবে ৫ প্রার্থীর মধ্যে শুধু স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল মান্নান (মোটরসাইকেল) ১৬৮ ভোট পেয়ে জামানত হারিয়েছেন। জৈন্তাপুর উপজেলার ২নং জৈন্তাপুর ইউনিয়নে প্রদত্ত ভোট ১৪ হাজার ৭১৫টি। জামানত রক্ষায় চেয়ারম্যান প্রার্থীদের ৮ ভাগের একভাগ ১৮৩৯ ভোট প্রয়োজন ছিল। সে হিসেবে ৭ প্রার্থীর ৪ জন জামানত হারিয়েছেন। তারা হলেন- স্বতন্ত্র আব্দুল আহাদ (টেবিল ফ্যান) ১৫২৭ ভোট, স্বতন্ত্র নুরুল ইসলাম (চশমা) ১৫৯ ভোট, স্বতন্ত্র আব্দুল হাই (টেলিফোন) ১৩৮ ভোট, হোসেইন আহমদ (মোটরসাইকেল) ৩৪৫ ভোট।
৩নং চারিকাটা ইউপিতে প্রদত্ত ভোট ১১ হাজার ৩১২টি। জামানত রক্ষায় প্রার্থীদের প্রয়োজন ১৪১৪ ভোট। সে হিসেবে এ ইউনিয়নে ৮ প্রার্থীর ৫ জনই জামানত হারিয়েছেন। তারা হলেন- স্বতন্ত্র আলতাফ হোসেন বিলাল (ঘোড়া) ২৭৯ ভোট, দেলোয়ার হোসেন আজাদ (টেলিফোন) ২৭৯ ভোট, বদরুল ইসলাম (আনারস) ৮৩ ভোট, আফজাল হোসেন (আনারস) ৮৮ ভোট।
৪নং দরবস্ত ইউনিয়নে প্রদত্ত ভোট ২০ হাজার ৮১২টি। এরমধ্যে জামানত রক্ষায় ৮ ভাগের এক ভাগ ভোট প্রয়োজন ছিল ২৬০১টি। এরমধ্যে ৫ প্রার্থীর ৩ জন জামানত হারিয়েছেন। তারা হলেন-স্বতন্ত্র খয়রুল আমিন (ঘোড়া) ২২২ ভোট, জসিম উদ্দিন শিকদার (হাতপাখা) ২৬৯ ভোট, মো. মাসহুদ আজহার (খেঁজুর গাছ) ২৪৬১ ভোট।
৫নং ফতেহপুর ইউনিয়নে ৩ প্রার্থীর মধ্যে স্বতন্ত্র তাফাজ্জুল হোসেইন (আনারস) ১২৯ ভোট পেয়েছেন। ইউনিয়নে প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা ১৩ হাজার ২৬৭টি। জামানত রক্ষায় প্রার্থীদের প্রয়োজন ছিল ১,৬৫৮ ভোট।
৬নং চিকনাগুল ইউপিতে প্রদত্ত ভোট ১২ হাজার ৪৭৫। জামানত রক্ষায় ১৫৫৯ ভোট প্রয়োজন ছিল প্রার্থীদের। সে হিসেবে এখানে ৯ প্রার্থীর ৫ জনই জামানত খুইয়েছেন। তারা হলেন-স্বতন্ত্র আতিকুর রশীদ (দুটি পাতা) ১০৯৫ ভোট, আব্দুল আহাদ (ঘোড়া) ১০১৮ ভোট, লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী ১৬৯ ভোট, অটোরিকশার প্রার্থী ৪৪৩ ভোট, আনারস প্রতীকের প্রার্থী ৪৪৮ ভোট।
দক্ষিণ সুরমা উপজেলার সিলাম ইউনিয়নে প্রদত্ত ভোট ১৫ হাজার ৯৮০টি। জামানত রক্ষায় ১৯৯৭ ভোট প্রয়োজন ছিল প্রার্থীদের। সে হিসেবে ৬ প্রার্থীর ৩ জনই জামানত হারিয়েছেন। তারা হলেন- মো. ফয়জুল হক (মোটরসাইকেল) ৮৪৮ ভোট, মো. মাহবুব আহমদ (আনারস) ২৮৩ ভোট, সুমন মিয়া (অটোরিকশা) ৩৬০ ভোট পেয়ে জামানত হারিয়েছেন।
লালাবাজার ইউনিয়নে প্রদত্ত ভোট ১৩ হাজার ২৫০টি। জামানত রক্ষায় ১৬৫৬ ভোট প্রয়োজন ছিল। সে হিসেবে ৬ প্রার্থীর ৩ জনের জামানত বাজেয়াপ্ত হচ্ছে। তারা হলেন- স্বতন্ত্র আব্দুল মুহিত (আনারস) ১২৯২ ভোট, খালেদ আহমদ রাসেল (চশমা) ৪৮ ভোট, মামুনুর রহমান চৌধুরী (রজনীগন্ধা) ৪২ ভোট।
মোগলাবাজার ইউনিয়নে প্রদত্ত ভোট ১৬ হাজার ৬৬২ টি। জামানত রক্ষায় প্রার্থীদের প্রয়োজন ছিল ২০৮২ ভোট। সে হিসেবে ৬ প্রার্থীর ২ জন জামানত হারিয়েছেন। তারা হলেন-স্বতন্ত্র মো.মুকিত মিয়া (আনারস) ১৫৩১ ভোট এবং শামিনুল হক (অটোরিকশা) ১৪৩৩ ভোট পান। কিন্তু জামানত রক্ষা হয়নি।
জালালপুর ইউনিয়নে ভোট পড়েছে ১৮ হাজার ৪৪০টি। জামানত রক্ষায় ২৩০৫ ভোট প্রয়োজন ছিল প্রার্থীদের। সে হিসেবে ইউনিয়নে ৩ প্রার্থীর একমাত্র হারুনুর রশিদ (হাতপাখা) ২১৩ ভোট পেয়ে জামানত হারান।
দাউদপুর ইউনিয়নে প্রদত্ত ভোট ১৩ হাজার ৪১৬টি। জামানত রক্ষায় প্রার্থীদের প্রয়োজন ৮ ভাগের একভাগ ১৬৭৭ ভোট। সে হিসেবে ৪ প্রার্থীর মধ্যে একমাত্র স্বতন্ত্র ছালিক আহমদ (ঘোড়া) ১৯৪ ভোট পেয়ে জামানত হারিয়েছেন।
তৃতীয় ধাপে সিলেট জেলার ৩ উপজেলায় ১৬ ইউপিতে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে রোববার (২৮ নভেম্বর)। ভোটের ফলাফলে ৯টিতে নৌকা প্রতীকে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন। বাকি ৭টির ৩টিতে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী, ২টিতে স্বতন্ত্রের ব্যানারে বিএনপি, অপর দু’টিতে জাতীয় পার্টি ও জাসদের প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন।