jagannathpurtoday-latest news

,

সংবাদ শিরোনাম :

পৈত্রিক সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত প্রবাসি মনোয়ারা: আইনি সহায়তা কামনা

বিশেষ প্রতিনিধি :: সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার চিলাউড়া হলদিপুর ইউনিয়নের শালদীঘা গ্রামের যুক্তরাজ্য প্রবাসী মৃত আব্দুল মান্নানের পৈত্রিক সম্পত্তি দখল করে রেখেছেন তার আপন ভাইয়ের সন্তানেরা। আব্দুল মন্নানের সন্তানেরা সবাই যুক্তরাজ্যে থাকেন। আব্দুল মান্নানের দুই স্ত্রী। ১ম স্ত্রী দেশে মারা যান অনেক আগে। পরে ২য় স্ত্রী খায়রুন্নেছা ও ২ সন্তান হিরন মিয়া ও মোহন মিয়া এবং ১ম স্ত্রীর সন্তান মনোয়ারা বেগম ও সুজন মিয়াকে নিয়ে তিনি যুক্তরাজ্যে বসবাস করছিলেন। এ ব্যাপারে আব্দুল মন্নানের ১ম স্ত্রীর সন্তান যুক্তরাজ্য প্রবাসী মনোয়ারা বেগম অভিযোগ করেন, তার বাবা চাচাদের মাঝে তার পিতাই একমাত্র যুক্তরাজ্য প্রবাসী ছিলেন। সেই সুযোগে তার বাবার পাঠানো টাকা দিয়ে তার চাচা মুসা উল্লাহ বিষয় সম্পত্তি কিনেন এবং ভোগ করেন। লন্ডনে তার বাবা আব্দুল মন্নান মারা যান ১৯৯৬ সালে। বর্তমানে তাদের বাড়ি তার চাচাতো ভাই সুনা মিয়া, আফতর আলী, খালিক, ময়না, সাজন তাদের এবং তাদের সন্তানদের দখলে। সম্প্রতি বিষয় সম্পত্তির মাঠ পরসা হালনাগাদ হওয়ার পরে মনোয়ারা বেগম তার চাচাতো ভাই সুনা মিয়ার কাছে এসব কাগজপত্রের কপি চেয়ে ব্যর্থ হন। এমনকি লন্ডন প্রবাসি মনোয়ারার আপন ভাই সহ তারা কারোরই ইচ্ছে নেই মনোয়ারাকে পৈত্রিকসূত্রে পাওয়া বিষয় সম্পত্তির ভাগ দিতে।  তার পৈত্রিক সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। মনোয়ারা বেগম আরও উল্লেখ করেন যে, তিনি চিলাউড়া হলদিপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শাহিদুল ইসলাম বকুলকে লিখিত অনুমোদন দিয়েছিলেন যে তার ভাগটা তার চাচাতো ভাইদের কাছ থেকে বুঝে নিতে। কিন্তু তাঁকে নাকি মনোয়ারার চাচাতো ভাইয়েরা জানান, মনোয়ারা দেশে গিয়ে তার দাবি জানাতে। কিন্তু দেশে আসা বা থাকা মনোয়ারার জন্য কোনোভাবেই নিরাপদ নয় বলে মনে করছেন তিনি। কারণ, অতীতে তার বাবাও তার চাচার কাছে তাঁর প্রাপ্য অংশ চেয়ে ব্যর্থ হয়েছেন।
মনোয়ারা আরো জানান যে, মনোয়ারার মাকে বিয়ে করার সময় তার বাবা চার কেদার জমি রেজিষ্ট্রী করে দিয়েছিলেন সাফ কাবালা করে। এই জমিও এখন তাদের দখলে নাই। মনোয়ারার ভাই সুজন মিয়া চার কেদার থেকে দুই কেদার জমি উদ্ধার করলেও তিনি দেশে থাকা তার শ্বশুর হাফিজুর রহমান প্রতাপ এর সহায়তায় উদ্ধারকৃত জমি থেকে মনোয়ারার নাম বাদ দিয়ে দুই কেদার জমি একা তার নিজ নামেই করে নিয়েছেন যার প্রমাণ রয়েছে মনোয়ারার কাছে।
ইউনিয়ন চেয়ারম্যান শাহিদুল ইসলাম বকুল প্রবাসী মনোয়ারাকে সহযোগিতা করার চেষ্টা করছেন। কিন্তু একা তার পক্ষে তা সম্ভব হচ্ছে না। মনোয়ারা তার প্রাপ্য সম্পত্তি বুঝে নিতে চান। তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে তার বাবার সম্পত্তি তার চাচা ও ভাইয়েরা ভোগ করে আসছে। এখন ষড়যন্ত্র করে তা তাদের দখলে নিয়ে মনোয়ারাকে বঞ্চিত করেছে। তিনি তার প্রাপ্য বুঝে পেতে এলাকাবাসীসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতা কামনা করেন।